আব্দুল কুদ্দুছের বসত বাড়ী জাল-জালিয়াতি করে দখল করার অভিযোগে সংবাদ সন্মেলন

0
50

স্টাফ রিপোর্টার : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজির পাড়া গ্রামের হাজী আব্দুল কুদ্দুছের বসত বাড়ি সহ মুল্যবান জমি অস্ত্রের মুখে লিখে নেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাড়ির মালিক ও সদর উপজেলার মটবী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুছ। গতকাল বিকালে তিনি চন্দ্রগঞ্জ উন্নয়ণ সাংবাদিক ফোরামের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। এর আগে তিনি লক্ষ্মীপুরের প্রথম যুগ্ন জেলা জজ আদালতে একই অভিযোগ তুলে দলিল বাতিল চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং ৪২/১৯ তারিখ ১৫.০৪.২০১৯ ইং। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিবাদীদের প্রতি নোটিশ জারি করেছেন।

মামলায় বর্ণিত অভিযোগ ও বাদীর লিখিত বক্তব্যে জানাযায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত এবিএম আব্দুল আউয়ালের পুত্র জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ি মোঃ সামছুল হুদা বাদী হাজী আব্দুল কুদ্দুছের মালিকানাধীন হাজির পাড়া ইউনিয়নের হাজির পাড়া -চৌপল্লী সড়কের আলেয়া মঞ্জিল ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে মাসিক ৬ হাজার টাকায় ভাড়া ৬ বছরের জন্য নেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভাড়া চুক্তিও সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ ইং সালে ভাড়াটিয়া আব্দুল কুদ্দুছকে সামছুল হুদা তার ঢাকার অফিসে নিয়ে তার কাছে বাড়ি সংলগ্ন আব্দুল কুদ্দুছের নাল জমি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করার প্রস্তাব করলে তিনি প্রথমে রাজি হলেও পরবর্তীতে তিনি জমি বিক্রি করতে অস্বীকার করেন। এতে সামছুল হুদা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

পরবর্তীতে আব্দুল কুদ্দুছ ২৮ আগষ্ট ২০০৫ ইং বাদী আব্দুল কুদ্দুছকে মান্দারীস্থ শ্বশুর বাড়ি থেকে টাইগার ফারুক ও মোস্তফা নামের দুই সন্ত্রাসীর সহযোগীতায় নিজ গাড়ীতে করে তুলে নিয়ে যায়। পথিমধ্যে তারা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লক্ষ্মীপুর সাব রেজিষ্ট্রী অফিসে নিয়ে সামছুল হুদার লিখানো মত দলিলে স্বাক্ষর করতে বলে। এ সময় বাদী জানতে পারেনি কার নামে এবং কোন জমি রেজিষ্ট্রী করে নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে তাকে উক্ত জমির টাকা দিবে বলেও অদ্যবদি দেয়নি।অপর দিকে বাদী আব্দুল কুদ্দুছ থেকে সামছুল হুদা ভাড়াকৃত বাড়ীটির চুক্তি মৌখিক ভাবে নবায়ন করে নিয়ে অগ্রীম টাকা প্রদান করলে আব্দুল কুদ্দুছ সে টাকা দিয়ে সৌদী আরব চলে যান।

অসুস্থতা নিয়ে আব্দুল কুদ্দুছ দেশে ফিরে এলেও তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় এ নিয়ে কোন কিছু করতে পারেননি। এ দিকে সম্প্রতি জানতে পারেন সামছুল হুদা আব্দুল কুদ্দুছের বাড়ির দুইটি ভবন ও প্রথম স্ত্রীর কবরের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলছেন। খবর পেয়ে তিনি এসে বাধা প্রদান করলে তাকে জানানো হয় উক্ত বাড়ি সহ সমুদয় জমি জমা তিনি ২০০৫ সালের আগষ্টে সামছুল হুদা ও তার স্ত্রী সাহিদা আক্তার শিরিন এবং তার মেয়ে সুমাইয়া সাদিয়া হুদা হুমায়রা আয়েশা হুদা ও রুবাইয়া নাদিয়া হুদার নিকট বিক্রি করে দিয়ে নিস্বত্ববান হয়েগেছেন।
পরবর্তীতে তিনি দলীলের সহিমুহুরী নকল সংগ্রহ করে এর সত্যতা পেয়ে আদালতের আশ্রয় নেন। এ দিকে এ ব্যাপার বাড়াবাড়ি করলে আব্দুল কুদ্দুছকে দেখে নেওয়ার হুমকী দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন আব্দুল কুদ্দুছ। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, আমি আজ নিঃস্ব। আমি জামায়াত নেতা সামছুল হুদার প্রতারণার বিচার চাই।

সামছুল হুদার বিরুদ্ধে আনা আব্দুল কুদ্দুছের অভিযোগের সত্যতা জানা সম্ভব হয়নি।তবে লক্ষ্মীপুর জজ আদালত সুত্রে মামলা দায়েরের সত্যতা পাওয়াগেছে। ইতিমধ্যে দেশে থাকা মামলার বিবাদীদের বিরুদ্ধে আদালতের নোটিশ জারি করার কথাও জানান জারি কারক মিন্টু।