কালীগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা স্থাপন! জনগণের দূর্ভোগ চরমে!

0
69

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলাধীন ভোটমারী ইউনিয়নের আওতাধীন একটি হাটের নাম ভুল্ল্যারহাট। নদী ভাংঙ্গ এলাকা হওয়ায় আশপাশের ইউনিয়নের জনসাধারনের একমাত্র আনাগোনা ঘটে এ ভুল্ল্যারহাট বাজারে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ১৯৬২ এবং ১৯৯০ এর এসএ রেকর্ড মুলে হাটটি ৪.৯৬ শতাংশ জমি থাকলেও হাটে বিগত দিনে ইজারা না থাকায় হাটের জমিতে সরকারী দলের নেতা পাতিনেতাদের ছত্রছায়ায় অর্থের বিনিময়ে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জনসাধারন। বর্তমান তথা ২০১৯ অর্থবছরের হাট ইজারাদার জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, আগে হাট ইজারা দেয়া হতো না। এবার প্রথম ৬লক্ষ ৫৪ হাজার টাকায় হাট টি ইজারা নিয়েছি। তবে সরকারকে এত টাকা দিয়ে আমি পড়েছি বিপাকে। হাটটির জমি আছে ঠিকই কিন্তুু এ হাটে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। তারমধ্যে সরকারী দলের লোকজন হাটের জমিতে অবৈধভাবে তিনটি দলীয় অফিস নির্মান করেছেন। এ হাটে অবৈধ স্থাপনার মধ্যে সরকারী দলের ৩ টি পার্টি অফিস, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি মন্দির, ২ টি মসজিদ সহ হাটের জমিতে ৮টি বাড়ি, ৭২ টি গোডাউন, ৩৬২ টি অবৈধ দোকান,মহিলা মার্কেট সহ সব কিছুই হাটটির জমি দখল করেছে। হাটের পাশে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও হাটের জমিতে অবৈধ স্থাপনা থাকায় বেচাকেনা করার মত পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ফলেও জনসাধারন বা কৃষক তাদের না্য্যমুল্য হতে বঞ্চিত। রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নেই কোন সরকারী উদ্দ্যেগ। ৩১ মে সরোজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, বাজারটির জনদূর্ভোগ চরমে! বাজারের ভিতরে একটি বড় মসজিদ দেখা গেলেও এলাকাটি ছিল দুর্গন্ধে ভরপুর। মসজিদের অজু খানার পানি, প্রসাব সহ সকল পানি আটকে আছে মসজিদের রাস্তায়। বাজারের পানি নেমে যাওয়ার ড্রেনগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সরকারীদলের নেতাদের ছত্রছায়ায়। কারন হিসাবে জানাগেছে সরকারীদলের কর্মীদের হাতে পুর্বে হাট নিয়ন্ত্রন থাকায় অর্থ আত্মসৎ করা হত। বর্তমানে বাজারটির ইজারাদার পরিবর্তন হওয়ার দু’মাসের মাথায় এসব সংকট সরকারী দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের পকেট ভারি করতেই সৃস্টি বলে স্থানীয় জনগনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভোটমারী ইউনিয়ন আঃ লীগ সভাপতি এবং বাজার এলাকাটির ইউপি সদস্য গোলজার হোসেন কে সংকট মোকাবেলায় আপনার দলের ও আপনি জনপ্রতিনিধি হিসাবে কি পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে হাটের পানি নেমে যেত দক্ষিন দিকে এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পানি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কারনে এ সমস্যার সৃস্টি হয়েছে। মসজিদের সামনের ড্রেন কে বন্ধ করেছে জানতে চাইলে বলেন, উত্তরদিকে ইউনিয়ন পরিষদের পুকুর থাকায় বন্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন আঃ লীগ সাধারন সম্পাদক হয়রত আলী কে হাটবাজার উন্নয়নে সরকারী কোন বরাদ্দ পেয়েছেন কিনা এবং ড্রেন ব্যবস্থার কোন উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুর্বে হাটে কোন উন্নয়ন বরাদ্দ সরকার বা মন্ত্রী মহোদয় দেননি। তবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সহ আলোচনা করে এলজিএসপির ৩ লক্ষ টাকা ড্রেন সংস্কারে বরাদ্দ করা হলে পানি নেমে যাওয়ার কোন উপায় না থাকার কারনে বিষয়টি স্থগিত আছে। ইতি পুর্বে ইন্জিনিয়ার, ইউএনও সবাই দেখে গেছে। উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আব্দুল মালেক জানায়, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা জরুরী। রমজান মাসে রোজা রেখে জনসাধারন মসজিদে আসে নামাজ আদায় করতে পারছে না। কতটা দুর্গন্ধ আর পঁচা বিষাক্ত পানি মসজিদের সামনে জমে গেছে নামাজ আদায় করা অসম্ভব হয়ে গেছে। প্রবেশের কোন জায়গা নেই। ড্রেন গুলো ব্যক্তিস্বার্থে বন্ধ করে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃস্টি হয়েছে। তবে মসজিদ কমিটি ও বাজার কমিটি বা সরকারী কোন উদ্যোগ, নেই সমস্যা সমাধানে। আমি দু’একদিনের ভিতরে মসজিদ কমিটির সদস্য পদ হতে পদত্যাগ করব। মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহন মেম্বার বলেন, বাজারটি উন্নয়নে কোন বরাদ্দ বা উদ্দ্যোগ নেয়নি ভোটমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। আগে অর্ধেক বাজারের পানি আমার ব্যক্তিগত মালিকানা জমির উপর দিয়ে যেত। এখন আমি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান করেছি জমিতে। তবুও পানি নেমে যাওয়ার জন্য পাইপ বসিয়ে দিয়েছি। উত্তর দিকের সরকারী পুকুর বা সরকারী উদ্দ্যোগে পানি নেমে যাওয়ার জন্য সৃস্ট সমস্যার সমাধান হতে পারে। বাজারের নিয়ন্ত্রন পরিবর্তন হওয়ার কারনে এসব সমস্যা হচ্ছে। মসজিদে আজ মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারছে না, বিষয়টি জরুরী নজরে নিয়ে সমাধান করা দরকার বলে মনে করি। ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহেদুল হক চৌধুরী কে সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।