তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার পক্ষ থেকে শুভ জন্মদিন ময়মনসিংহকে । Happy birthday Mymensingh.

0
129

রাব্বি ফুলপুর(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ 232 year ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এক জনপদ ময়মনসিংহ। একসময়কার উপমহাদেশের বৃহত্তর এ জেলাটি আজ বিভাগে রুপান্তিরিত হয়েছে। ঐতিহাসিক এই জেলার আজ ২৩২ তম জন্মদিন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে রাজস্ব আদায়, প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে স্থানীয় বিদ্রোহ দমনের জন্য ১৭৮৭ সালের পহেলা মে ময়মনসিংহ কে জেলা হিসেবে ঘোষনা করে বৃটিশ সরকার। ময়মনসিংহ জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে গাজীপুর জেলা, পূর্বে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা অবস্থিত।ময়মনসিংহ জেলার নাম করনের পিছনের ইতিহাস হলো- মোগল আমলে মোমেনশাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তার নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী। ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তার পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ’র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি। ময়মনসিংহ জেলার মানচিত্র নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে ময়মনসিংহ হয় একটি ভুলের কারণে। বিশ টিন কেরোসিন বুক করা হয়েছিল বর্জনলাল এন্ড কোম্পানীর পক্ষ থেকে নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এই মাল চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এ নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরবর্তীতে আরো কিছু বিভ্রান্তি ঘটায় রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ রাখা হয়। সেই থেকে নাসিরাবাদের পরিবর্তে ময়মনসিংহ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ময়মনসিংহ জেলা ভেঙ্গে পরবর্তীতে ১৮৪৫ সালে জামালপুর, ১৮৬০ সালে কিশোরগঞ্জ, ১৮৬৯সালে টাঙ্গাইল ও ১৮৮২ সালে নেত্রকোনা মহকুমা গঠন করা হয়। পরে সবকটি মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়। ১৮৮৬ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ ও ১৮৮৭ সালে জেলা বোর্ড গঠন করা হয়। সব মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করলেও এই অঞ্চলএখনো বৃহত্তর ময়মনসিংহ নামে পরিচিত। ২০১৫ সালে ঢাকা বিভাগ ভেঙ্গে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত হয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহের অংশ হলেও কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলা ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।প্রাচীন এ জনপদের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য গৌরিপুরের রাজবাড়ি, মুক্তাগাছার রাজবাড়ী, ময়মনসিংহ শহরের শশীলজ, রাজ রাজেস্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস, আঠারোবাড়ী জমিদার বাড়ী তারই প্রমাণ এখনো বহর করছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গন অভ্যুথান, ৯০-দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সহ বাংলাদেশের সকল ক্ষেত্রেই ময়মনসিংহ ছিল অগ্রগন্য তালিকায়। এ জেলায় জন্মগ্রহন করেছেন অনেক মনীষি, রাজনৈতিক, বিখ্যাত সাহিত্যিক। যারা দেশেরভান্ডারকে করে গেছেন আলোকিত। ময়মনসিংহ এর ২৩২ তম জন্মদিনে আমাদের আশা থাকবে ইতিহাস ঐতিহ্যের এই জনপদ বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সুত্র ধরে তা যেন অব্যাহত থাকে। শান্তি সমৃদ্ধির সোপান ধরে এগিয়ে যাক আমাদের প্রিয় জেলা ময়মনসিংহ এই কামনা।