বরিশালে অস্ত্রের মুখে পত্রিকার সম্পাদককে জিম্মি করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে, অত:পর সুবিধা নিতে মামলা

0
85

সুমন খান স্টাফ রিপোর্টার : প্রতারনা মুলক এ ঘটনাটি বরিশালের বাকেরগঞ্জের। গত ২৪ আগস্ট রাত ১০ টায় বাকেরগঞ্জের কলসকাঠি গ্রামের ঘটক আলী সিকদার বিয়ের জন্য একটি মেয়ে দেখানোর কথা বলে বরিশালের বাসা থেকে বাকেরগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যায় স্থানীয় একটি পত্রিকার তরুণ সম্পাদককে(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। বরিশালের প্রচলিত রিতী অনুযায়ী বিয়ের জন্য মেয়ে দেখলে সেই মেয়ে পছন্দ হোক বা না হোক তাকে কিছু বকশিশ দিতেই হয়। যথারিতী সেই সাংবাদিকও সেই বাড়িী মেয়ে রিয়া আক্তার কে পছন্দ না হওয়া সত্যেও তার হাতে কিছু টাকা দেন। এই টাকা দেয়াই যেনো কাল হয়ে দাড়ালো তার জন্য! বাকেরগঞ্জের দূর্গম এলাকার সেই ঘরে থাকা লোকজন মুহুর্তেই যেনো রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। রিয়ার বড় বোন(নাম জানা যায়নি) তার স্বামীকে (নাম জানা যায়নি) বলে জলদী লোকজন খবর দাও এক্ষুনি বিয়ে পড়ানো হবে। রিয়া নামের ঐ মেয়ের বড়বোনের মুখে এমন কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সেই সাংবাদিক।

মোবাইল হাতে নিয়ে সে তার বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি কে কল করে সে কিন্ত কিছু বলে ওঠার আগেই রিয়া’র দুলাভাই সেই ফোন কেড়ে নেয়। এরই মধ্যে মেয়ের দুলাভাই তাগড়া কয়েক যুবককে নিয়ে আসে যাদের প্রত্যেকের হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র রামদা ছিলো। তারা প্রত্যেকে নিজেদের বাকেরগঞ্জ এলাকার ডাকাত দাবি করে এবং মেয়ের দুলাভাই নিজেকে বর্তমান শ্রমিকদলের সভাপতি ও ডাকাত দলের সাবেক সর্দার পরিচয় দিয়ে বলে আমার শালিকে এখন তোর বিয়ে করতে হবে নইলে এই রাতে মেরে এমন জায়গায় পুতে রাখবো তা কাক পক্ষীও জানবে না। অস্ত্রের মুখে প্রাণভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত সেই সাংবাদিক প্রবল অনিচ্ছা সত্যেও বিয়ে করতে রাজী হয়। এরপর প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় বাকেরগঞ্জ বাজারের কাজী অফিসে বসে বিয়ে হবে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকও এতে সায় দেয় কারণ সে মনে মনে ভাবছিলো বাজারে গেলে হয়তো কোন না কোন লোক পেয়ে যাবে যে তাকে উদ্ধার করবে। কিন্ত বিষয়টি আঁচ করতে পেরে রিয়া নিজেই বলে কাজী ঘরে ডেকে নিয়ে এসো বাজারে গেলে ঝামেলা হতে পারে। সেই ঘরে উপস্থিত দুষ্কৃতিকারীরা সবাই এতে সায় দেয়। এসময় মেয়ের বড় বোন জোর করে সেই সাংবাদিকের পকেটে থাকা দশ হাজার টাকা নিয়ে নেয় এবং মেয়ের দুলাভাই সাংবাদিকের গলায় রামদা ধরে বলে যেখান থেকে পারিস ১০ হাজার টাকা আন আর কোন চালাকির চেষ্টা করলে একেবারে জবাই করে দেবো। হুমকির মুখে সেই সাংবাদিক ঘনিষ্ট একজনের কাছে ফোন দিয়ে ৭০০০ টাকা বিকাশে আনে। পরে সেই টাকা দিয়ে সবাই কেনাকাটা করে। ইতোমধ্যে রাত আরো গভীর হলে রিয়া ও তার দুলাভাইয়ের চুক্তি করা কাজী শফিউল বশার চলে আসে সেই ঘরে। যদিও তিনি রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাজী কিন্ত গোপন চুক্তি করে লক্ষ্মীপাশা গ্রামে আসেন বিয়ে পড়াতে।

এসময় ভুক্তভোগী সাংবাদিক তাদের বোঝাতে থাকে কাল পর্যন্ত সময় দিন আমি আমার গার্ডিয়ান নিয়ে আসি। কিন্ত এতে যেনো আরো হিতে বিপড়ীত হলো মেয়ের বড় বোন বললো আমিই ছেলের বড় বোন হিসেবে সাক্ষী হবো এজন্য সে তার নিজের বাবার নাম চেঞ্জ করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সেই সাংবাদিক এর বাবার নাম ব্যবহার করে অথচ ঐ সাংবাদিকের কোন বোনই নেই! অপরদিকে সাংবাদিক কে ফাঁদে ফালানো সেই ঘটক আলী মেয়ের পরিবারের সাথে ২০ হাজার টাকার চুক্তি করে এবং নিজেকে উক্ত সাংবাদিকের চাচা পরিচয় দেয় যা কিনা সম্পূর্ণ ভুয়া। কারণ এ নামে ঐ সাংবাদিকের কোন চাচাই নেই। এসময় সেই সাংবাদিক বলে আমি তো আমার জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি এগুলো কিছুই আনিনি এগুলো ছাড়া বিয়ে তো হবে না। কিন্ত এতে বাধ সাধেন সেই কাজী শফিউল বশার। তিনি বলেন টাকা হলে বাঘের দুধও মেলে। এরকম কত বিয়ে পড়ালাম। কই কিছুই তো হলো না! পুরো বিষয়টা অবৈধ জেনেশুনেও সেই কাজী সম্পূর্ণ অবৈধভাবেই সেই বিয়ে রেজিস্ট্রি করে এবং সাংবাদিক কে ফাঁসাতে মেয়ের পরিবারের সাথে পূর্ব চুক্তি অনুসারে একতরফা ভাবে সেই সাংবাদিকের অজান্তে ৩ লাখ টাকা কাবিন করেন এবং রিয়া’র দুলাভাইয়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা বকশিশ নিয়ে চলে যান। যাবার সময় নিজেকে একটি সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে শফিউল বশার শাসিয়ে যান সেই সাংবাদিক কে।

যদিও যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতের নেতা হিসেবেই তিনি এলাকায় বেশী পরিচিত। এরপর পরদিন সকালে জোর করে উক্ত সাংবাদিকের সাথে গায়ে হলুদের নামে বেশ কিছু ছবিও তোলে মেয়ের পরিবারের লোকজন। এসময় সেখানে মেয়ের দুলাভাইয়ের ভাড়া করা বেশ কয়েকজন ভাড়াটে গুন্ডাও উপস্থিত ছিলো। এরপর উক্ত সাংবাদিক টয়লেটে যাবার বাহানা দিয়ে সন্ধ্যায় জঙ্গলের মধ্য দিয়ে দৌড়ে রাস্তার ধারে চলে আসে এবং বরিশালগামী একটি বাসে উঠে পড়ে। বরিশাল এসে প্রাণ ও সম্মান বাঁচাতে সে রাতেই লঞ্চে করে বরিশাল ছাড়েন তিনি। লোকলজ্জার ভয়ে এ ব্যাপারে কাউকে কিছু জানানিও তিনি।

মেয়ের পরিবার বাসার মালামাল লুটপাট করতে পারে এই ভয়ে লেবার দিয়ে ভাড়া বাসায় থাকা সকল মালামাল সরিয়ে ফেলেন তিনি। এমন ঘটনায় যেনো দিশহারা হয়ে পড়ে ঐ মেয়ের স্বজনরা। তারা বিভিন্নভাবে উক্ত সাংবাদিককে এবং তার পত্রিকার বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি কে হামলা, মামলার ভয় দেখাতে থাকে। ওদিকে খোদ সেই মেয়ে নিজেও ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তার বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধিকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন এবং নিজেকে র‍্যাব-৮ এ কর্মরত এক কর্মকর্তার খালাতো বোন পরিচয় দিয়ে সবাইকে দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। যার বেশ কয়েকটি কল রেকর্ড ভুক্তভোগীদের কাছে রয়েছে।

সেই সাংবাদিকের কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করছেন বিভিন্নভাবে। নয়তো প্রধানমন্ত্রী’র পর্যন্ত তার লোক আছে এবং হয়রানী করতে যতদূর যেতে হয় সে যাবে বলে অনবরত হুমকি দিয়ে আসছেন।

সর্বশেষ রিয়া নামের এই মেয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানীমূলক একটি মামলা করেছেন উক্ত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে এর আগে এই প্রতারক রিয়া আক্তারের প্রকাশ্যে ও গোপনে আরো একাধিক বিয়ে রয়েছে এবং বিয়ের নামে লোকদের হয়রানী করে টাকা হাতানোই তার এবং তার বোন ও দুলাভাইয়ের পেশা এবং একাজে তাদের সঙ্গ দিয়ে আসছেন স্থানীয় ঘটক ও শফিউল বাশারের মতন অসাধু কিছু কাজীরা।