লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে পল্লী বিদ্যুৎতের নতুন সংযোগের নামে চরম প্রতারণার অভিযোগ আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে!

0
592

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ সংযোগের নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে আবদুল কাদের নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগ উপজেলার চরলরেঞ্চ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড ছলারবোগো বাড়ীর আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে কমলনগর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগসহ খুঁটি ও সংগোগের জন্য কর্মকর্তাদের অর্থ অগ্রিম দেওয়ার নাম করে এলাকার লোকজন থেকে চেকের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নিয়ে মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই কাদের।

প্রতারণার কারণে পালিয়ে বেড়ালেও পাওনাদারদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করাসহ র্যাব, পুলিশ ও ডিবি দিয়ে আটক ও হয়রানি করার ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, চর জাঙ্গালিয়ার দুলা মিয়ার পুত্র সাইফ উল্যা থেকে ৭০ হাজার টাকা, চর লরেঞ্চের মৃত অলি উল্যার পুত্র মাওলানা ঈমান আলী থেকে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৫শ’ টাকা এবং চর লরেঞ্চের সৈয়দ আহম্মদের পুত্র নাসির উদ্দিন থেকে ৮০ হাজার টাকা খুঁটি ও বিদ্যুৎ সংযোগের নাম করে নিয়েছে আবদুল কাদের। সাংবাদিক বা জনপ্রতিনিধি কেউ জানলে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তিতে সমস্যার সন্মূখীন হতে পারে এজন্য ভূক্তভোগী আরও অনেকেই নিজের পরিচয় ও অর্থের পরিমান জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে।

কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও চর লরেঞ্চ এর হাজী আবদুল হাসিমের পুত্র আবদুল গনির দায়ের করা ৩০ লক্ষ টাকা দাবির চেকের মামলা এবং চর লরেঞ্চ এর মৃত ফজলুল করিমের পুত্র নিজাম উদ্দিনের দায়ের করা ৬ লক্ষ টাকা দাবির চেকের মামলা মাথায় নিয়ে সে এলাকা ছাড়া। চর লরেঞ্চ এলাকায় আবদুল কাদের প্রতারক হিসেবে পরিচিত হলেও ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে চর লরেঞ্চ মৌজার ২৩০৯ নং খতিয়ানের ৮৫৫৯ দাগের ৮ ডিসিমেল সম্পত্তি চর লরেঞ্চের মোহাম্মদ আলীর পুত্র জাকির হোসেনের নিকট কয়েংক বছর পূর্বে ছাপ কবলা মূলে বিক্রি করলেও (নামজারী জমা খারিজ নং ৭৯৯/১৭-১৮ আদেশের তারিখ ১৮/০৪/২০১৮) সংবাদমাধ্যমে জমি জবর দখলের মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগও উঠেছে আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে।

ভূক্তভোগী জাকির হোসেন বলেন, সম্পত্তি বিক্রি করার পর আবদুল কাদের এখন অন্য কথা রটাচ্ছে। পাশাপাশি ৩১/০৭/২০১৬ তারিখে ইফাদ অটোস থেকে একটি পিকআপ কিস্তিতে নিয়ে আবদুল কাদেরকে ভাড়া দিলে সে ভাড়ার টাকাও পরিশোধ না করে গত বছর গাড়ীটি নিজের বলে দাবী করে। যাও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

কেননা পিকআপটি ইফাদ অটোস লিমিটেড, ঢাকা এর মানি রিসিপ্ট নং এ-০২৯৪৪৮৫ তাং ২৮/০৭/২০১৬ তারিখে ৫০ হাজার টাকা এবং একই অফিসের মানি রিসিপ্ট নং এ-০২৯৪৫৭৩ তাং ৩১/০৭/২০১৬ তারিখে ৪ লাক্ষ ৫০ হাজার টাকা মোট ৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে ঢাকা-রায়পুর সড়কের হযরত শাহজালাল অটো গ্যালারী থেকে ৩১/০৭/২০১৬ তারিখে গাড়ীটি গ্রহন করি।

আবদুল কাদেরের এমন অপপ্রচারের পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবদুল কাদের নিজেই লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখায় জাকির হোসেনের সাথে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত একখানা অভিযোগ দায়ের করে। গত ১০/০৯/২০১৮ তারিখে লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে নোটিশ করার পর ৮/১০/২০১৮ তারিখে একটি সালিশ বৈঠকে ৩০/০৩/২০১৯ এর মধ্যে আবদুল কাদের কর্তৃক জাকির হোসেনকে ১৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ডিবি পুলিশের এমন উদ্যোগ মেনে স্বাক্ষর করে দীর্ঘদিন টাকা পরিশোধের তালবাহানা করে আবদুল কাদের এবার র্যাবের মাধ্যমে জাকির হোসেনকে হয়রানি করার এবং সুদের কারবারী বলে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার হুমকি দিচ্ছে বলে জাকির হোসেন জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল কাদের নিজেকে পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার বলে দাবি করলেও অন্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।

চরলরেঞ্চ তথা কমলনগরবাসী আবদুল কাদেরের এমন প্রতারণা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।