লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় জরাজীর্ণ

0
105

অ আ আবীর আকাশ লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি : ‘ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে বহু আগেই, পলেস্তার খসে পড়ছে কক্ষগুলোতেও। নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। তারপরেও ঝুকি নিয়ে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।’- চিত্রটি লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের।

জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তার ভেঙে আহত হচ্ছেন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা। ৩১ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ এ ভবনটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মান না করলে, যে কোন মূহুর্তে ভবন ধসে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। অভ্যর্থনা কক্ষে ছাদের পলেস্তার খসে রড দেখা দেওয়ায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ সুপারের গোপনী শাখা, প্রধান সহকারীর কক্ষ, হিসাব শাখাসহ প্রায় সব কক্ষেই ফাটল দেখা যাচ্ছে। আর অফিস করতে গিয়ে পলেস্তার খসে পড়ে নষ্ট হচ্ছে জামাকাপড় আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

এদিকে এ ঘটনায় সম্প্রতি (গত ২৫জুন) জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে দ্রুত ভবন মেরামতের চাহিদা জানিয়ে লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগকে লিখিত ভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে অনুলিপি দেওয়া হয় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিসহ উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে।

লিখিত চিঠিতে জানানো হয়, বিগত ১৯৮৬-১৯৮৭ অর্থ সালে গণপূর্ত বিভাগের মাস্টার প্ল্যান মোতাবেক লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় দ্বিতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০১৩-২০১৪ অর্থ সালে ভবনের পশ্চিম পাশের ৩য় তলায় সিআইডি অফিস নির্মাণ করা হয়। ওই সময় সিআইডি অফিস নির্মাণ করার প্রাক্কালে ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরা সৃষ্টি হয় এবং ছাদ ও দেওয়ালের আস্তর খসে পড়তে থাকে। সর্বশেষ ২০১৭-২০১৮ অর্থ সালে পুলিশ বাজেটের কোড নং-৩.২২১১-০০০১-সদর দপ্তর-৭০১৬- অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ’ খাতে বরাদ্ধকৃত ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৫ টাকা ব্যয়ে ভবনটির পূর্ব পার্শ্বের উর্ধ্বেমূখী সম্প্রসারণ (একাংশ) ৩য় তলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। নির্মাণ কাজ চলমান অবস্থায় ভবনটিতে আগের চেয়ে আরও বেশি ফাটল ধরা ও ছাদ খসে পড়া সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির পানি ছাদ বেধ করে প্রতিটি রুমের আসবাবপত্র ও সরকারি জরুরী কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হচ্ছে।

চাহিদায় আরো জানানো হয়, ভবনটির দ্বিতীয় তলায় অভ্যর্থনা কক্ষে প্রতিদিন ২০/৩০জন দর্শনার্থী বসে থাকেন। চলতি বছরের ২২জুন পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ওই কক্ষে হঠাৎ করে ফ্যানসহ সম্পূর্ণ ছাদের পলেস্তার ভেঙ্গে পড়ে যায়। এতে মহি উদ্দিন নামে একজন কনস্টেবল দূর্ঘটনার কবলে পড়ে মারাত্মক আহত হয়। ভেঙ্গে যায় কক্ষে থাকা সকল আসবাবপত্র। ঐ দিন সরকারি ছুটির দিন দর্শনার্থী না থাকায় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে নি। এছাড়া ভবনটির বিভিন্ন কক্ষের ছাদ, দেওয়াল ও বিমের কংক্রিটসহ পলেস্তার খসে পড়ে মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে।

ভবনটির ৩য় তলায় পশ্চিম অংশে সিআইডি অফিস এবং পূর্ব পার্শ্বের পুলিশ সুপার কার্যালয় ৩য় তলা (একাংশ) উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ করায় ভবনটি আরও জরাজীর্ণ ও পুরাতন হয়ে পড়েছে। যে কোন মূহুর্তে ভবন ধসে বড় ধরণের অনাকাংখিত ঘটনা ঘটতে পারে। এতে কার্যালয়ের অফিসার, ফোর্স ও দাপ্তরিক কর্মচারীরা আতঙ্কের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাহিদাপত্রে গণপুর্ত বিভাগকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মহি উদ্দিন ও হিসাবরক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, দীর্ঘদিনের পূরন পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পুরো ভবনেই ফাটল রয়েছে। প্রতিটা কক্ষেই পলেস্তার খসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। কখন যে ধসে পড়ে তা বলা দায়। তার পরেও জীবনের ঝুকি নিয়ে অফিস করতে হয়। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তারা।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার ফাটল এবং অভ্যর্থনা কক্ষে ছাদ থেকে খসে পড়ায় মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। তারা পরিদর্শণ করে করেছেন। তবে এখনো কাজ শুরু করেননি।

জানতে চাইলে জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বলেন, ধসে পড়া কক্ষটি পরিদর্শন করে ব্যবহার না কারার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উধ্বর্ত কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবেও জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী খুব দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হবে।