সড়ক সন্ত্রাসে প্রাণহানি! এ দায় কার?

0
113

অ আ আবীর আকাশ : সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে তাতে আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছি বেপরোয়া যানবাহন চলাচলে প্রাণহানির ঘটনাকে ছোট করে ভাবলে হবে না। একজন মানুষ নয় শুধু, সে তার পরিবারের মূল উপার্জনকারী। যেহেতু প্রাণ একবার চলে গেলে আর ফেরানো যায় না, সে কারণে যানবাহন চালকদের যেমন কঠোর সতর্ক ভাবে চলতে হয়, চালাতে হয়, তেমনি পথচারীসহ অন্যদেরও সতর্কভাবে রাস্তায় চলাচল করা উচিত।

সড়ক দুর্ঘটনাকে আমি আর ঘটনা দুর্ঘটনা বলতে চাই না। এটাও এই সময়ে এসে সড়ক সন্ত্রাসে পরিণত হয়েছে। চালকের উদাসীনতায় দুর্ঘটনার জন্ম। প্রতিটি দুর্ঘটনাকে অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে কোন না কোন ভুল, লোভ, অসুস্থ প্রতিযোগিতা কিবা ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর বাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি। কিন্তু এসব দেখবে কে? দেখার দায়িত্ব কার? এ ক্ষেত্রে আমরা সাধারন জনগন কোনটা মনে করব?

(ক) জনগণের? (খ) ট্রাফিক -পুলিশের? (গ) বিআরটিএর? (ঘ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের? (ঙ) রাজনৈতিক নেতাদের? (চ) সাংবাদিকদের?

যানবাহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হচ্ছে বিআরটিএ। তাহলে অন্য সবের দোষ দিয়ে কি লাভ! ট্রাফিক পুলিশ দুইটাকায় খুশি। টাকা হলে লাইসেন্স, ফিটনেস ঠিক, অদক্ষ চালক,কিশোর চালকও তাদের কাছে ওস্তাদ হয়ে যায়। তাহলে বিআরটিএ এ দায়িত্ব এড়াতে পারবে না। কিন্তু তারাও আরেক নষ্ট। অফিসে বসে উপসহকারী ইঞ্জিনিয়ার, যানবাহন পরিদর্শক কাগজপত্র তৈরি করবে, টাকা হাতাবে, অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করবে। `অফিসে আসবে খালি পকেটে, নিয়ে যাবে পকেট ভারী করে।’এটাই তাদের কাজ।

যা-ই বলি, গত ক’দিনের লক্ষ্মীপুরসহ সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে সড়কে মানুষ মরতে শুরু করেছে। ট্রাক উল্টে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, সিএনজিচালকের উদাসীনতায়, অটো বাঁচাতে, মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহন সড়ক-মহাসড়কে মানুষ হত্যার কল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়ক সন্ত্রাসে প্রাণহানি চক্রাকারে বৃদ্ধি হওয়ার পিছনে রাস্তার দু’পাশের গাছ না থাকারও একটা কারণ বলে সচেতন মহল দাবি করেন। দুর্ঘটনা ঘটলে যে যানবাহনগুলো গাছের সাথে ঠেকেঠুকে থাকতো, যাত্রীরা প্রাণে রক্ষা পেত, তা আর হয় না, সরাসরি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয় তারা। এজন্য সড়কের গাছ যারা বিক্রি করেছে তারাও দায়ী। এ দায় কি তারা এড়াতে পারবে? না।

মানুষ মরবে- মারবে, লাশ গুম হবে, যানবাহন মালিক জনগণের রক্তে গোসল করবে, টাকার উপর টাকার পাহাড় বানাবে। তবু প্রশাসন- কর্তৃপক্ষ তাদের ধরবে না। নাকের উপর কালো ধোঁয়া ছেড়ে যাবে তারপরেও তাদের টনক নড়বে না। কারণ টাকা পেলে মানুষ মরলে খতি নেই। `টাকা হলো জগতের বাপ, টাকা হলে দূর হয় পাপ।’

চালকদের বোঝা উচিত যে -সময়কে প্রাধান্য না দিয়ে ধীর গতিতে নিরাপদে পৌঁছানোই উত্তম। যদি চালক মারা যায়, তার বউ সন্তানের কি হবে? বৃদ্ধা মা বাবার কি হবে? এ বুঝ কি তার মধ্যে আছে?

এ দেশের ডাকাত থেকে রাজনীতিবিদ হয়! চেয়ারম্যান- মেম্বার হয়, গাড়ি ঘোড়ার মালিক হয়,রুপ বদলে যে কপাল সে মাথা। মানুষই খুন করে। এদের রুখে দেয়া যায় না। আইন দিয়ে কি হয়! মানুষ মেরে কি হয়! ক’টা দিন জেলে গিয়ে তারপর আবার সে একই কর্ম। টাকার পাহাড়ে তারা হারিয়ে যায়!

দেশে নারীদের অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, মোবাইলে অশ্লীলতা, হোটেল -চাইনিজ- ক্যাফে যৌনাচার বেড়ে যাওয়ায় আল্লাহর তরফ থেকেও এরকম গজব নাজিল হতে পারে। তাদের সতর্ক করবে কে? বাবা প্রবাসী, ব্যবসায়ী, চাকুরে, শ্রমজীবী এদিকে মা মোবাইল পিরিতি। বাহিরে গমন! মেয়ে কি আর ভালো হবে? না। মা ঠিক তো মেয়ে ঠিক, বাবা ঠিক তো ছেলে ঠিক। মা-ই আগে খারাপ হয়, মেয়ে দেখে দেখে পরে হয়।

হে আল্লাহ আমাদের যাবতীয় গুনাহ থেকে মাফ করে সকল বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করুন। সকলের ভেতরে সু-মনোভাব সৃষ্টি করে দিন। প্রত্যেক মানুষের মনে খারাপ দিকগুলো মুছে দিন। আমাদের ঈমানদার বানিয়ে খাঁটি মুসলিম করে নিন। আমীন।

লেখক : কবি প্রাবন্ধিক কলামলেখক মানবাধিকার ও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠক।