মুক্তাগাছায় ৭শত টাকার জন্য দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে সাতদিনের মধ্যে মুল আসামী গ্রেফতার

0
203


ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহে ৭’শত টাকার জন্য শাহজাহান ওরফে সাজু নামের এক ভ্যান চালককে হত্যাশেষে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ৩ কিলো দুরে লুকিয়ে রাখার সাতদিনের মধ্যে মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পল্লী এলাকায় মাত্র সাত শত টাকার জন্য দেহ থেকে মাথা কেটে আলাদা করে শাহজাহান ওরফে সাজু নামের এক ভ্যান গাড়ী চালককে। এ হত্যার অভিযোগে বাবুল মিয়া (৩২) নামে এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গেয়েন্দা পুলিশ ডিবি।

নিহত ভ্যান চালকের উপজেলার গড়বাজাইল গ্রামের মৃত হালিম উদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে। আজ ৭ই এপ্রিল রোজ রবিবার দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে (কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়) সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন।

এরআগে গতকাল ৬ এপ্রিল রোজ শনিবার দুপুরে সন্দেভাজন হিসাবে বাবুলকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্য মতে রাতে মুক্তাগাছা উপজেলার বানিয়াকাজী গ্রামের কচুরীপানাযুক্ত একটি ডোবা থেকে মৃত ব্যক্তির মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, বাবুল মিয়া মুক্তাগাছার গড়বাজাইল এলাকায় সাজুর (২১) কাছে সাত শত টাকা পেতো।

গত ৩০ মার্চ পাওনা টাকা নিয়ে সাজুর সাথে তর্কবিতর্ককালে বাবুল মিয়া সাজুকে ঘুষি মারে। এতে সাজু অজ্ঞান হয়ে মাটিঁতে পরে যায়। তখন অজ্ঞান অবস্থায় সাজুকে একটি মৎস ফিসারীর কাছে নিয়ে রাখে। পরে বাড়ি থেকে বটি-দা এনে সাজুর দেহ থেকে মাথা কেটে আলাদা করে ব্যাগে লুকিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দুরে একটি ডোবায় কচুরি পনার নীচে রেখে আসে কাটা মাথা।

তিনি আরও জানান, পরদিন ৩১ মার্চ সকাল ৮ টার দিকে বানিয়াকাজী গ্রামের তাইজুলের ফিসারীর পাড় থেকে মাথা বিহীন একটি অজ্ঞাত মর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সাজুর স্বজনরা খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানায় গিয়ে সাজুর মরদেহ সনাক্ত করেন। একইদিন বিকেলে সাজুর ভাই মো. ইসলাম বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এরপর মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান ও এলআইসি শাখার এস.আই জুয়েলকে। নিহত সাজু মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না। ফলে আসামি সনাক্ত ও গ্রেফতারে জটিলতা দেখা দেয়। পরে ডিবির ওসি মো শাহ কামান আকন্দ, এস আই মনিরুজ্জামান ও জুয়েল ছদ্যবেশ ধারন করে মুক্তাগাছার উপজলার গড়বাজাইল এলাকা থেকে বাবুল মিয়াকে তিন দিন চেষ্টার পর গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। তথ্য মোঃ কামাল।